১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৮:১৯

শিরোনাম
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের পছন্দের দল নিয়ে রহস্য রাখলেন তারেক রহমান আমিরাত থেকে দ্বিতীয় দফায় অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসছে এমটি নিনেমিয়া আশুরার তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন রাজশাহীর আমের প্রশংসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত একনেকে ৫ প্রকল্পে অনুমোদন, ব্যয় ৭ হাজার ৩ কোটি টাকা
শিরোনাম
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের পছন্দের দল নিয়ে রহস্য রাখলেন তারেক রহমান আমিরাত থেকে দ্বিতীয় দফায় অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসছে এমটি নিনেমিয়া আশুরার তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন রাজশাহীর আমের প্রশংসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত একনেকে ৫ প্রকল্পে অনুমোদন, ব্যয় ৭ হাজার ৩ কোটি টাকা

খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত রেজা পাহলভীর

খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত রেজা পাহলভীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

রবিবার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রবিবার সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাতবরণ করেছেন।’ 

এর আগে খামেনির নিহতের দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই কাপুরুষোচিত হামলাটি শনিবার ভোরের দিকে করা হয়। সে সময় খামেনি তার কর্মস্থলে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির শেষ শাহ-এর (রাজা) নির্বাসিত পুত্র রেজা শাহ পাহলভী। ওয়াশিংটন পোস্টে এক লেখায় তিনি প্রথমেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি। 

পাহলভি লিখেছেন, ‘প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত উসকে দিয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে।’তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে দেশের ভেতরেই, যার মধ্যে আছে জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনের সময় হাজারো প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনা।’

পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ পথচলায় একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদন করা উচিত। এরপর প্রয়োজন ‘আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে’ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। ইতিহাস তার মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত খুব কমই আগাম ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব এবং সংহতি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।

খামেনির মৃত্যুর পর ‘বিধ্বংসী আক্রমণ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা না করতে সতর্ক করেছেন।

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইরান মাত্রই জানিয়েছে যে তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও তারা যদি সেটা করে তাহলে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি!’

ইরানের ঐতিহাসিক রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে জন্মের পর থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছিল রেজা পাহলভিকে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের বিপ্লব যখন তার বাবার রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। দূর থেকেই তিনি দেখেছেন, তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি, যিনি একসময় পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন পেতেন, কীভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মিসরে মারা যান। হঠাৎ ক্ষমতা হারানোর পর তরুণ যুবরাজ ও তার পরিবার রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েন এবং নির্বাসনে জীবন কাটাতে বাধ্য হন। তাদের ভরসা তখন শুধু হাতে গোনা কিছু রাজতন্ত্রপন্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর ওপর সীমিত ছিল। পরবর্তী কয়েক দশকে পাহলভি পরিবার একাধিক দুঃখজনক ঘটনায় পড়ে। রেজা পাহলভির ছোট বোন ও ছোট ভাই দুজনই আত্মহত্যা করেন। ফলে, অনেকেই যাকে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া রাজবংশ মনে করত, সেই বংশের প্রতীকী প্রধান হিসেবে শেষ পর্যন্ত তিনিই থাকেন। এখন ৬৫ বছর বয়সে তিনি আবার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের এক শান্ত উপশহরে বসবাস করছেন। তার সমর্থকদের মতে, তার জীবনযাপন সাধারণ এবং সহজ, মানুষজনের সঙ্গে মিশে থাকেন। তার চারপাশে চোখে পড়ার মতো কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, এবং স্থানীয় ক্যাফেগুলোতে প্রায়ই তাকে তার স্ত্রী ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা যায়।

২০২২ সালে এক পথচারী তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি নিজেকে ইরানের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনের নেতা মনে করেন কি না। তখন তিনি এবং তার স্ত্রী একসঙ্গে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘পরিবর্তন আসতে হবে দেশের ভেতর থেকেই।’

 


 

আরও পড়ুন