০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২২:৩৯

শিরোনাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২
শিরোনাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

জন্মসনদ পেল যৌনপল্লির ৭০০ শিশু

জন্মসনদ পেল যৌনপল্লির ৭০০ শিশু

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০:৪৪

বাংলাদেশের বৃহত্তম যৌনপল্লি দৌলতদিয়াসহ অন্যান্য পল্লিতে জন্ম নেওয়া ৭০০-এরও বেশি শিশু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথমবারের মতো জন্মনিবন্ধন সনদ লাভ করেছে। মা যৌনকর্মী এবং বাবার পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ায় গত কয়েক দশক ধরে আইনি জটিলতায় এই শিশুরা ছিল ‘পরিচয়হীন’। এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে এখন থেকে তারা অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতো শিক্ষা, পাসপোর্ট এবং ভোটাধিকারের মতো সব মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবে।

এতদিন জন্মসনদ না থাকায় এই শিশুরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে চরম বৈষম্যের শিকার হতো। বাবার নাম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে না পারায় সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের জন্মসনদ দিতে অস্বীকৃতি জানাতেন। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ফ্রিডম ফান্ড'-এর বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালেদা আক্তারের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় বেশ কিছু সংগঠনের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এই অচলবস্থার অবসান ঘটেছে। ২০১৮ সালের একটি উপেক্ষিত আইনি ধারাকে সামনে এনে এই শিশুদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে কার্যকর হওয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালায় বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়াও কোনো শিশুর জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব। তবে আইনের এই বিষয়টি মাত্র কয়েক লাইনের ছিল এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা না থাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এটি কার্যকর করতে দ্বিধা করতেন। খালেদা আক্তার এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো দৌলতদিয়া ও অন্যান্য পল্লির শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ লবিংয়ের মাধ্যমে এই ধারাটি বাস্তবায়নে সফল হন।

জন্মসনদ প্রাপ্তির এই খবর যৌনপল্লির মায়েদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সনদের অভাবে এই শিশুদের পাচারের ঝুঁকি থাকত এবং বয়স ১৮ বছরের কম হওয়া সত্ত্বেও তাদের শনাক্ত করা ছিল দুঃসাধ্য। বর্তমানে দৌলতদিয়া পল্লির প্রায় ৪০০ শিশুর সবাই নিবন্ধিত হয়েছে। এখন মায়েরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অন্যকে নিবন্ধনের জন্য উৎসাহিত করছেন। এতে করে শিশুরা এখন স্কুলে ভর্তি হয়ে উপবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে ফেরার এক বড় সিঁড়ি।

এই সনদ প্রাপ্তিকে কেবল একটি কাগজ হিসেবে নয়, বরং প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াইয়ের চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী আবেগের সাথে জানায়, “সরকার অবশেষে আমার পরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে, এখন আমি নিরাপদ।” মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কাছে ‘অদৃশ্য’ থাকা এই শিশুরা নির্যাতন ও শোষণ থেকে সুরক্ষা পাবে এবং সমাজের মূলধারায় মিশে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন