তারকাদের আড়ালে স্পেনের আসল স্থপতি লুইস দে লা ফুয়েন্তে
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২২:১২
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আলোটা সাধারণত গোলদাতা বা তারকা ফুটবলারদের দিকেই থাকে। এবারের বিশ্বকাপেও লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা মিকেল ওইয়ারসাবালকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। তবে স্পেনের ফাইনালে ওঠার নেপথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামটি লুইস দে লা ফুয়েন্তে। দলের এই কোচই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পেনকে গড়ে তুলেছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলে।
ইউরো জয়ের সময় স্পেনের প্রধান শক্তি ছিল দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণ। কিন্তু ইয়ামাল পুরোপুরি ফিট না থাকায় বিশ্বকাপে সেই পরিকল্পনা বদলে ফেলেন ফুয়েন্তে। গতিনির্ভর ফুটবলের পরিবর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্যশীল বিল্ডআপ এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিংয়ের ওপর জোর দেন তিনি। আক্রমণ ও রক্ষণে এই দ্রুত রূপান্তরই স্পেনকে দিয়েছে নতুন পরিচয়।
ফুয়েন্তে বুঝেছিলেন, একটি দলের শক্তি সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। তাই নির্দিষ্ট কৌশলে অটল না থেকে তিনি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী পুরো দলের খেলার ধরনই পাল্টে দেন। রদ্রিকে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরানো, দানি অলমোকে আরও সৃজনশীল ভূমিকা দেওয়া এবং মিকেল মেরিনোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার মতো সিদ্ধান্তগুলো স্পেনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
স্পেনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। টুর্নামেন্টের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয় ফুয়েন্তের দল। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, উইংয়ে জায়গা না দেওয়া এবং বল হারানোর পর তাৎক্ষণিক প্রেসিং—এই তিন স্তরের কৌশলে ফরাসিদের পরিকল্পনাই ভেঙে দেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তিও গড়েছে। কোচের মতে, এই ধারাবাহিকতার পেছনে রয়েছে প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিবেদন এবং প্রতিদিন আরও উন্নতির মানসিকতা।
ফুয়েন্তের আরেকটি বড় শক্তি হলো, জাতীয় দলের অধিকাংশ ফুটবলারকে তিনি বয়সভিত্তিক দল থেকেই গড়ে তুলেছেন। ফলে প্রতিটি খেলোয়াড়ের মানসিকতা ও সামর্থ্য সম্পর্কে তার ধারণা অন্য অনেক কোচের চেয়ে গভীর।
ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ডাগআউটের অন্য প্রান্তে থাকবেন তার বন্ধু লিওনেল স্কালোনি। তবে ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফাইনালে বন্ধুত্ব নয়, গুরুত্বপূর্ণ হবে দলের প্রস্তুতি এবং সঠিক পরিকল্পনা।
যদি ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন, তাহলে সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব শুধু ইয়ামাল বা রদ্রিদের নয়, বরং নীরবে পুরো দলকে নতুন রূপ দেওয়া লুইস দে লা ফুয়েন্তের নামও সমান গুরুত্বে উচ্চারিত হবে।
প্রতিফলন/ এনজেএস
আরও পড়ুন
- • জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বেড়েছে :জ্বালানিমন্ত্রী
- • বিশ্বকাপের উন্মাদনায় উৎপাদনশীলতা কমে বিশ্বে ১৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি
- • উৎসে কর তদারকিতে মাঠে এনবিআরের বিশেষ টিম, জারি ৫ নির্দেশনা
- • ককরোচ পার্টির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে সংঘর্ষ, উত্তপ্ত দিল্লি
- • সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের ফ্ল্যাটে দুদকের দ্বিতীয় দিনের অভিযান
- • আবারও গ্রেফতার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম
- • মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৭৩ বাংলাদেশিসহ ৬৪১ জন
- • গায়ানায় যাত্রীবাহী ফেরি ডুবি, শতাধিক আরোহীর মধ্যে উদ্ধার ৬৭
- • ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখতেই আসছে আর্জেন্টিনার তথ্য!
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • বরিশালে সাংগঠনিক সভায় যে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • গাজায় ১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ইইউ
