এক বছরে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ১৪:৩৪
দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে গত এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই তথ্য দেশের সেবা খাতে দুর্নীতির গভীরতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মতো এবারও পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। পাসপোর্ট সেবায় ৭৬.৬ শতাংশ এবং বিআরটিএ সেবায় ৬৩.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবাখাতেও দুর্নীতির হার উল্লেখযোগ্য। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, ৮১.৫ শতাংশ পরিবার মনে করে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ২০২৩ সালের তুলনায় পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে, তবুও গত বছরে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১.৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। কারণ হিসেবে তারা পুরো ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে। এছাড়া প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই জানা নেই কোথায় এবং কীভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করতে হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮.৫ শতাংশ। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা চালু হলেও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব পুরোপুরি কমেনি, ফলে দুর্নীতির সুযোগ এখনো বহাল রয়েছে।
আরও পড়ুন
- • ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
- • আবারও বড় পর্দায় ফিরল দর্শকপ্রিয় ‘হাওয়া’
- • সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মালেই মিলবে স্বর্ণের আংটি
- • নিত্যপণ্যের দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
- • বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনোমিক করিডোরের প্রস্তাব দিল বেইজিং
- • ডেনমার্কে লাউডস্পিকারে আযান নিষিদ্ধের উদ্যোগ, শুরু বিতর্ক
- • নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ধনী দেশের তালিকায় যেতে পারে ইরান
- • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে গোলাগুলি, আটক বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
- • বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর
- • ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
- • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
- • ম্যাচ উপভোগ করতে ঢাবিতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত
