০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৫৫

শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

পাবনায় অটোরিকশাচালক ফজলু হত্যার ঘটনায় স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় অটোরিকশাচালক ফজলু হত্যার ঘটনায় স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৯:৫৬

পাবনার বেড়ায় অটোরিকশাচালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় তার স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তাররা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামের মৃত ছকির উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৪৭), তার সহযোগী একই উপজেলার সমাসনারী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত জাফর প্রামাণিকের ছেলে খোকন প্রামানিক (৪২)।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ সকালে ফজলুল হকের গলা কাটা মরদেহ একটি মাঠের ধানের জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। তার আগের দিন দিবাগত রাতের কোনো একসময় তাকে হত্যা করা হয়। নিহত ফজলুল হক বেড়া উপজেলার হাতিগাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

সোমবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, ফজলুল হক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাতিগাড়া চকপাড়া ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বের হন তিনি। কিন্তু বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ২০ মার্চ সকাল ৬টার দিকে ফজলুল হকের ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে পুলিশ বেড়া উপজেলার বড় বশিলা মাঠে ধানের জমির ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন বাদী হয়ে ২০ মার্চ বেড়া থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জোছনা খাতুন নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী। আসামি মানিক হোসেন আবার জোছনা খাতুনের প্রাক্তন স্বামী। আর অপর আসামি খোকন প্রামানিক মানিকের বন্ধু। 

তদন্ত ও গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান আরো জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে নিহত ফজলুল হকের সঙ্গে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। জোছনা খাতুন কাশিনাথপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে লটারির টিকিট বিক্রি করার সময় মানিকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ফজলুল হককে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন জোছনা। তার সঙ্গে কিছুদিন সংসার করার পর জোছনা খাতুন দুই সন্তানের কথা ভেবে আবারও ফজলুল হকের কাছে চলে আসেন এবং মানিককে তালাক দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ফজলুল হককে হত্যার জন্য নানা সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন মানিক। এদিকে ফজলুল হকের সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় অভিযুক্ত মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন জোছনা খাতুন। কিছুদিন আগে মানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে জোছনার সঙ্গে ঝগড়া হয় ফজলুল হকের। তখন থেকেই জোছনা ক্ষুব্ধ হয়ে মানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ফজলুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। 

আরেক অভিযুক্ত খোকনের সঙ্গে ফজলুর পূর্ব বিরোধ থাকায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করেন তারা। ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে নির্জন বড় বশিলা মাঠে ধানের জমিতে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক অটোরিকশাচালক ফজলুল হককে দা দিয়ে গলায় কোপ দিয়ে হত্যার পর ফেলে রেখে চলে যান।

এ ঘটনার ১০ দিন পর ফজলু হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত থাকায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজন পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। 
সোমবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা পুলিশ।

আরও পড়ুন