মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনগুলোর একটি হলো দাম্পত্য জীবন। এই সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে না, বরং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই তা সুদৃঢ় হয়। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে নির্ধারিত—যেখানে স্বামীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বাস্তবতায় কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন স্বামী যথাযথ কারণ ছাড়াই প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান থেকে বিরত থাকেন।তখন প্রশ্ন আসে—স্ত্রীর করণীয় কী?
স্বামী প্রয়োজনীয় খরচ না দিলে স্ত্রীর করণীয় কী?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৯
এই বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। একদিকে যেমন পারিবারিক শান্তি ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে স্ত্রীর অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান জানা এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বামী যদি যথাযত কোনো কারণ ছাড়া স্ত্রী সন্তানের তথা সাংসারিক জরুরি খরচ না করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াও স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজন মতো অপচয় না করে খরচ করতে পারবে।
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সাহাবিয়া হিনদ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান সংসারের খরচে সংকীর্ণতাকারী, সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ খরচ দেয় না, তবে আমি তার অগোচরে তার থেকে কিছু নিয়ে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ তার অগোচরে তার থেকে নিতে পারবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫২৬৪, বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৭)
তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মালিকানা ভিন্ন হওয়ায় অনুমতি ছাড়া একে অন্যের সম্পদ ব্যয় করা অবৈধ। স্বামী যদি নিয়মমাফিক ভরণ-পোষণ ও স্বাভাবিক হাতখরচ-এর প্রয়োজন পূরণ করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে তার অগোচরে টাকা পয়সা নিয়ে নেওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা বৈধ হবে না। (বাহারুর রায়েক, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১৭৭)
অতএব, স্বামীর ওপর যেমন স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তেমনি স্ত্রীর জন্যও সীমা ও সংযম নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামী যদি অযৌক্তিকভাবে প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান না করে, তবে শরিয়ত স্ত্রীর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে—তবে তা অবশ্যই অপচয় ও অন্যায় থেকে মুক্ত হতে হবে। অন্যদিকে, স্বামী যদি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে তার অগোচরে সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ নয়। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলাপ-আলোচনা এবং ন্যায়ের পথে চলাই দাম্পত্য জীবনের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন
- • একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- • বিশ্বকাপের পর ফের মুখোমুখি স্পেন-আর্জেন্টিনা?
- • ২০২৭ সালের হজের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ প্যাকেজ ঘোষণা
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • বাসা দেখার অজুহাতে ডাকাতি, পরিকল্পনায় একই ভবনের গৃহবধূ; স্বর্ণ-নগদসহ গ্রেপ্তার ৪
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • ‘ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ’ ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে তাহেরীর মন্তব্য
- • ভারতে প্রথমবার ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, মিলবে ৪–৬০ বছর বয়সীদের জন্য
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
