০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ০১:২৯

শিরোনাম
ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩
শিরোনাম
ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩

ওয়াকআউটের পর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন জামায়াত আমির

ওয়াকআউটের পর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ২২:৪৯

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আবারও জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর এবার দাবি আদায়ে আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু, আন্দোলন ছাড়া আমাদের এখন আর কোনো পথ নেই। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল—কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।

তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে।

এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন।

শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তি—জনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু, তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথ—জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব।

শফিকুর রহমান এসময় বলেন, আশা করি, অতীতের মতো এবারও জনগণ আমাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে। 

তবে, আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই বললেও জামায়াতে ইসলামী তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে একত্রে বসে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  

আরও পড়ুন