০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০২:৫৩

শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

সালমান খান : এক নাম, এক অধ্যায়

সালমান খান : এক নাম, এক অধ্যায়

নুসরাত জাহান স্মরনীকা

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১২

বলিউডে অনেক নায়ক এসেছেন, অনেকেই গেছেন। কেউ কেউ সময়ের ঢেউয়ে হারিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের নামকে সময়ের ওপরে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু এমন একজন আছেন, যিনি শুধু নায়ক নন একটা অনুভূতি, একটা আবেগ, একটা যুগের নাম। তিনি হলেন সালমান খান। সালমান খান সিনেমা জগতের এক অনন্য নাম। তার ক্যারিয়ার যেন একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমা, যার একেকটি দৃশ্যে লেখা নতুন রহস্যের উত্থান। একজন ভক্তের চোখে সালমান খান শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এমন এক তারকা, যার সিনেমা মানেই উৎসব, যার উপস্থিতি মানেই উন্মাদনা। তার যাত্রাটা কেবল সাফল্যের গল্প নয়, বরং লড়াই, বিতর্ক, পুনর্জন্ম আর অদম্য জনপ্রিয়তার এক অবিশ্বাস্য কাহিনি।

একজন তারকার জন্মঃ

১৯৬৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন সালমান খান। তার পুরো নাম আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনের পরিধি হয় বলিউডের সিনেমা পরিবারের সঙ্গে। বাবা সেলিম খান ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার। তিনি শুধুমাত্র গল্প লিখেছেন তা নয়, বরং হিন্দি সিনেমার জন্য এমন চরিত্র, সংলাপ ও গল্পের শৈলী তৈরি করেছেন, যা আজও প্রজন্মের প্রিয়। এমন একজন পিতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা মানেই অভিনয় ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় পাওয়া সহজ। তবে সালমানের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি দ্বিধাসাপেক্ষ যাত্রা। তারকা পরিবারে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও তাকে নিজেই নিজের পথ খুঁজে বের করতে হয়েছে কেবল পরিচিত নাম বা পিতার খ্যাতি যথেষ্ট ছিল না। ১৯৮৩ সালে সালমান খানের ক্যারিয়ারে প্রথম ক্যামেরার সামনে তিনি ক্যাম্পা কোলার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যান। তুখোড় সাতারু হওয়ায় তিনি এই বিজ্ঞাপনের কাজটি পান। ১৯৮৮ সালে সালমান খানের অভিনয় জীবনের সূচনা হয় Biwi Ho To Aisi সিনেমার মাধ্যমে। যদিও ছবিতে তার ভূমিকা ছিল ছোট, সেই ছোট্ট পদক্ষেপই ছিল ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় উপস্থিতি, ক্যামেরার সামনে কাজের চাপ এবং দর্শকের মন জয়ের চ্যালেঞ্জ সবকিছুই নতুন অভিজ্ঞতা। তারপর আসে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমা, যা কেবল তাকে পরিচিতি দেয়নি, বরং পুরো বলিউডের দর্শকপ্রীতির মানচিত্রই বদলে দিয়েছে। Maine Pyar Kiya। পরিচালক সুরাজ বরজাতিয়ার হাত ধরে নির্মিত এই প্রেমের গল্পে সালমান খান অভিনয় করেছেন “প্রেম” চরিত্রে। সিনেমাটি ছিল সরল, আন্তরিক এবং আবেগঘন তরুণ প্রজন্মের কাছে এক নতুন ধরনের প্রেমের পরিচয়।সালমানের অভিনয় ছিল প্রাণবন্ত, স্বাভাবিক এবং দর্শকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা রাখত। “ম্যায়নে পেয়ার কিয়া” শুধু একটি ব্যবসাসফল সিনেমা নয়, এটি ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক ঘটনা। এই ছবির সঙ্গে সালমান খানের নাম একাত্ম হয়ে যায়। 

নব্বই দশক: রোমান্টিক হিরোর রাজত্ব

নব্বইয়ের দশক ছিল সালমান খানের জন্য রোমান্স ও আবেগের জাদুর সময়। এই দশকে তিনি একের পর এক সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন এবং বলিউডের শীর্ষ তারকাদের এক স্থান নিশ্চিত করেন। তখন সালমান কেবল সিনেমার নায়ক ছিলেন না তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের প্রতীক। তার অভিনয়ের সরলতা, হাসি, চোখের ভাব এবং আত্মবিশ্বাস দর্শকের সঙ্গে এমন এক আবেগময় সংযোগ তৈরি করেছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে মনে গেঁথে থাকে। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া “হাম আপকে হ্যায় কৌন” সিনেমাটি সেই যুগের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টারগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সিনেমায় সালমানের চরিত্র ছিল সহজ, প্রাণবন্ত এবং হাসিখুশি। দর্শকরা তাকে শুধু সিনেমার নায়ক হিসেবে দেখেননি, তিনি হয়ে উঠেছেন পরিবারের এক প্রিয় সদস্যের মতো, যাকে তারা অনুভব করতে পারতেন, যাকে তারা ভালোবেসে নিতে পারতেন। সিনেমার গল্পে বন্ধুত্ব, প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, সব মিলিয়ে সালমানের চরিত্র যেন দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে যায়। এরপর আসে “করণ অরজুন”, যেখানে তিনি একাধিক সুপারস্টারদের সঙ্গে অভিনয় করেন, বিশেষ করে শাহরুখ খানের সঙ্গে। এই ছবির সংলাপ “মেরে করণ অরজুন আয়েঙ্গে” আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর। সালমানের শক্তিশালী উপস্থিতি, সাহসী দৃশ্য এবং আবেগময় অভিনয় দর্শকদের মনকে প্রভাবিত করে। তিনি কেবল নায়ক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন সেই সময়ের গল্পের প্রাণ এবং দর্শকের আবেগের প্রতিফলন। নব্বইয়ের দশকে সালমান খান মানেই ছিল প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার এবং আবেগের গল্প। তিনি ছিলেন সেই নায়ক, যার গল্পের সঙ্গে দর্শক নিজেকে সহজেই পরিচিত মনে করতে পারত। 

ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন  ও সংগ্রাম

২০০০ সালের শুরুর দিকে সালমান খানের ক্যারিয়ারে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। সিনেমা হিট হচ্ছিল, আবার কিছু ব্যর্থতাও ছিল। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা বিতর্ক তাকে ঘিরে ধরে। কিন্তু একজন সত্যিকারের তারকা কখনো হারিয়ে যান না, তিনি ফিরে আসেন। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া Tere Naam যেন সেই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা। এই সিনেমায় “রাধে” চরিত্রে সালমানের অভিনয় ছিল অসাধারণ। তার চুলের স্টাইল, তার ব্যথা, তার প্রেম সবকিছুই দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। অনেক ভক্তের মতো আমার কাছেও “তেরে নাম” শুধু একটা সিনেমা নয়, এটা সালমান খানের অভিনয়ের এক আবেগময় অধ্যায়। 

নতুন উদ্যমে শুরু সালমানের ক্যারিয়ার

২০০৯ সাল ছিল সালমান খানের ক্যারিয়ারের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। সেই বছর মুক্তি পায় “ওয়ান্টেড”। এই সিনেমা কেবল বক্স অফিসে সফল হয়নি, এটি সালমানকে নতুন এক চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করে। একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে, যার উপস্থিতিই দর্শকের চোখে উত্তেজনা, মনোযোগ এবং রোমাঞ্চ জাগায়। “ওয়ান্টেড” দেখিয়ে দেয় যে সালমানের স্ক্রিনে উপস্থিতি এখন কেবল রোমান্স নয়, বরং শক্তি, সাহস এবং দমবন্ধ করা অ্যাকশনের প্রতীকও হতে পারে। এই ছবির সাফল্য তার ক্যারিয়ারের পক্ষে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। এরপর শুরু হয় একের পর এক ব্লকবাস্টারের সময়। “দাবাং”-এ তিনি চুলবুল পাণ্ডে চরিত্রে হাজির হন। এক পুলিশ, যিনি আইনকে নিজের হাতে ধরে নেন, কিন্তু হৃদয়ে রয়েছে অসীম সহানুভূতি। সিনেমার স্বতন্ত্র স্টাইল, মজার সংলাপ এবং সাহসী একশন দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। এরপর আসে “এক থা টাইগার”, যেখানে অ্যাকশন এবং রোমান্স একসঙ্গে মিশে। আন্তর্জাতিক স্পাই থ্রিলারের মধ্যে সালমানের চরিত্রকে এতটা প্রামাণ্যভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় যে দর্শকরা শুধু সিনেমা দেখেন না, তারা যেন পুরো অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তার অভিনয়, শরীরের ভাষা এবং দৃঢ় উপস্থিতি সিনেমাটিকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।
তবে সবচেয়ে বিশেষ এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সিনেমা হলো “বজরঙ্গি ভাইজান”। এই সিনেমায় সালমান কেবল শক্তিশালী বা সাহসী নায়ক নন। তিনি হয়ে ওঠেন মানবিকতার প্রতীক। পাকিস্তানি ছোট্ট মেয়েকে তার পরিবারে ফেরত পাঠানোর গল্পের মাধ্যমে তিনি দর্শকের হৃদয়কে সরাসরি স্পর্শ করেন। এই চলচ্চিত্র প্রমাণ করে যে সালমান খানের ক্ষমতা কেবল অ্যাকশন বা বাণিজ্যিক নায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি এমন গল্পও ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যা মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং মানবিক সম্পর্ককে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করে। এই সময়কালই তাকে বলিউডের বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় নামগুলোর মধ্যে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। 

সালমান খানের সিনেমার গান, এভারগ্রিন যাদু 

সালমান খানের সিনেমার গানগুলো বলিউডের গানের ইতিহাসের এক এভারগ্রিন অধ্যায়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সালমান খানের মুভির গানগুলো চরম জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। "Chunari Chunari", "Mujhse Shaadi Karoogi", "Sajaan Ji Ghar Aye", " Salam-E-Ishq", "Tenu Leke Main Javangga" ইত্যাদি গান ছাড়া এখনো বিয়ে বাড়ি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এছাড়া সালমানের রোমান্টিক গানগুলোও অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। সালমান খানের গান মানে ভক্তদের জন্য ঈদের দিন, আবেগঘন এক মূহুর্ত। 

সিনেমার পর্দার বাইরে সালমান

সালমান খানকে কেবল সিনেমার পর্দায় বিচার করলে তার পুরো ব্যক্তিত্ব বোঝা সম্ভব নয়। পর্দার বাইরের জীবনেও তিনি অসংখ্য মানুষের জীবনে আলোর প্রদীপ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শুধু একজন সুপারস্টার নন, একজন মানবিক ব্যক্তি, যিনি নিজের খ্যাতি ও সম্পদের মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে বিশ্বাস করেন। ২০০৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Being Human Foundation, যা মূলত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাজ করে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসংখ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য সহায়তা পেয়েছে।
সালমানের মানবিকতা কেবল সাধারণ মানুষের সাহায্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। ২০১০ সালে সালমান খান ভারতের প্রথম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে বোন ম্যারো (অস্থি মজ্জা) ডোনেট করে এক নাবালিকা মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। পূজা নামের এক অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি ম্যারো ডোনার রেজিস্ট্রি ইন্ডিয়া (MDRI)-তে নিবন্ধন করে এই মহৎ কাজ করেন। তাঁর এই উদ্যোগ ভারতে বোন ম্যারো দানে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। সালমান খান নানাবিধ বিতর্ক এবং সমালোচনার মধ্যেও ছিলেন। তার জীবনসঙ্গী, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সংবাদমাধ্যমে উন্মুক্ত বিতর্ক প্রায়ই তাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। তবে এই সব সমালোচনার পেছনে থাকলেও, অসংখ্য মানুষ তাকে একজন দয়ালু, সহানুভূতিশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন, যিনি নীরবে হাজারো মানুষের জন্য কাজ করেন। কখনও নিজস্ব আর্থিক সাহায্য দিয়ে, কখনও ব্যক্তিগত সময় ব্যয় করে, তিনি অসংখ্য জীবনকে স্পর্শ করেছেন। সালমান খানের এই মানবিক দিক তাকে অন্য বলিউড তারকাদের থেকে আলাদা করে তোলে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন সুপারস্টার হওয়া কেবল আলো, গ্ল্যামার এবং দর্শকের প্রশংসার জন্য নয় বরং তার প্রভাব এবং শক্তি ব্যবহার করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। 

বলিউডে সালমান খানের জনপ্রিয়তা 

আজকের দিনে বলিউডে অনেক নতুন তারকা এসেছে। কিন্তু সালমান খানের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটা ফেনোমেনন। তার সিনেমা মানেই ঈদের উৎসব। তার ডায়ালগ মানেই ভক্তদের উন্মাদনা।
সবচেয়ে বড় কথা তিনি ভক্তদের সঙ্গে একটা অদ্ভুত আবেগের সম্পর্ক তৈরি করেছেন। তাই তো কোটি মানুষ তাকে শুধু নাম ধরে ডাকে না, ভালোবেসে বলে “ভাইজান”। সালমান খান তার ভক্তদের সঙ্গে এমন অটুট বন্ধন তৈরি করেছেন যা ধরা-ছোয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং এটি একটি অনুভূতি, যা ভক্ত এবং তারকাকে অদৃশ্য এক বাঁধনে বেঁধে রাখে।

সালমান খান এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে ভালো লাগার বা ভালোবাসার জন্য ভক্তদের কোনো কারণ লাগে না৷ সালমান খানের ফেস কার্ড বলিউডের এক অনন্য নিদর্শন যা বলিউড দ্বিতীয় কারো মাঝে ফিরে পাবে না। বলিউডে কখনো দ্বিতীয় সালমান খান আসবে না। তাকে ঘিরে হাজারো বিতর্ক থাকলেও "সালমান খান" একটা নামই যথেষ্ট। সালমান খানের আসন্ন মুভিগুলো নিয়ে ভক্তদের মাঝে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সালমান খানের মুভির আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতে চান ভক্তরা। সবশেষে, বলিউডে অনেক বড় তারকা আছে, কিন্তু সালমান খান আলাদা। কারণ তিনি শুধু স্ক্রিনে নায়ক নন, তিনি মানুষের হৃদয়েরও নায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো নতুন নতুন নায়ক আসবে, নতুন ট্রেন্ড তৈরি হবে। কিন্তু বলিউডের ইতিহাসে একটা নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে — সালমান খান।


নুসরাত জাহান স্মরনীকা। 
লেখক ও সাংবাদিক
 

আরও পড়ুন