১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৯:৪০

শিরোনাম
আজ বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার
শিরোনাম
আজ বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩:২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি।  মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হঠাৎ করেই বিকাল ৪টার পর থেকে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে হালকা শিলা পড়তে শুরু করে। সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমান্বয়ে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ভারি শিলাবৃষ্টিতে রূপ নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিলা পড়ে সাদা চাদর হয়ে যায় মাটি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ৯.৪ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এলাকাভেদে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫ থেকে প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত হালকা থেকে ভারী শিলা পড়েছে। শিলাবৃষ্টি পড়ে প্রাথমিকভাবে জেলার ৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। 

এদিকে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং জমিতে থাকা অল্প পরিমানের গম, বুট, যব, মসুর, খেসারি, পান, সবজি, পেঁয়াজের মতো রবিশস্য নিয়ে ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাঁদের দাবি, আমের ক্ষতি নিশ্চিত। শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে প্রচুর আম গুঁটি। গাছের নিচে বিছিয়ে পড়ে গুঁটিগুলো। নেক গুঁটি ফেটে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, ‘মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও করণীয় বলা যাবে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযাযী ৫ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমির আম ও ১ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। ১৫২ হেক্টর জমির সব্জিসহ অন্য ফসল আক্রান্ত হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলার পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়। সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয়নি। বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি শিলা পড়ায় খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না। তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট এলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে আমে কিছু ক্ষতি হতে পারে। যেসব গমে পানি পড়েছে সেগুলো বীজের জন্য রাখা যাবে না। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির পানি সব ফসলের জন্য উপকারী হবে।

সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়। তবে সব স্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার রোদ উঠে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ক্ষতি কম হবে। এরপরও আমের ক্ষতি হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।’

সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া বলেন, ‘এবার আমের গুঁটি মুকুলের তুলনায় অনেক কম। এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুঁটি আমের বড় ক্ষতি হবে। কয়েকদিনে ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম। আমে দাগ হবে। ফলন কমবে। আমচাষিদের মনে ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে এই শিলাপাত।’

সদরের রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাষি মন্টু হাজী বলেন, ‘শিলা কোনো গাছপালা বা ফসলের জন্যই উপকারী নয়।  বৃষ্টি আমের জন্য উপকারী তবে আমের গুঁটি ছোট থাকায় ক্ষতি কম হতে পারে। তবু চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আম সংশ্লিষ্টরা।

সদরের গোহালবাড়ির ইরিচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘২৮ জাতের ধানের শীষ ফুটে গেছে। কিছু ধানে শীষ। এসব ধানের কম-বেশি ক্ষতি হতে পারে। তবে বৃষ্টি ধানের জন্য উপকার বয়ে আনবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আম উৎপাদন এলাকা হলো ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে, যার ৮০ শতাংশের বেশি কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। 

আরও পড়ুন