১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৩:৫৬

শিরোনাম
চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী
শিরোনাম
চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী

৯০ দিনে খেলাপি ঋণ হ্রাস ৮৭ হাজার কোটি টাকা

৯০ দিনে খেলাপি ঋণ হ্রাস ৮৭ হাজার কোটি টাকা

বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৫

তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এই কমতি ব্যাংকিং খাতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনও উদ্বেগজনক উচ্চতায় রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। সেই হিসাবে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, নজরদারি জোরদার এবং হিসাবের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ এই কমতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে পরিসংখ্যানের এই স্বস্তির আড়ালেও রয়েছে বড় ঝুঁকি। মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ হিসেবে চিহ্নিত, যা কার্যত আদায় অযোগ্য বলে বিবেচিত। অর্থাৎ বড় একটি অংশ এখনও ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম, ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঋণ আদায় না হলে ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়, এতে মুনাফা কমে যায় এবং মূলধনের ওপর চাপ তৈরি হয়।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ বাড়লে নতুন ঋণ বিতরণে অনাগ্রহ তৈরি হয়, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়। ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়তে পারে, যা উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের জন্য ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে। আমানতকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি চরম পরিস্থিতিতে তারল্য সংকটও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লে সরকারকে বাজেট থেকে মূলধন সহায়তা দিতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত জনসম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই খেলাপি ঋণের উচ্চহার ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সার্বিকভাবে তিন মাসের এই নিম্নগতি ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও খেলাপি ঋণের উচ্চহার এখনো বড় ঝুঁকি হয়ে রয়ে গেছে। দীর্ঘ অস্থিরতার পর সামান্য স্বস্তি মিললেও টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার ও কঠোর তদারকির বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন