২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ১১:০৭

শিরোনাম
সর্বোচ্চ জাকাত সংগ্রহকারী নির্বাচিত হলেন ডিসি ফরিদা খানম এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ আশুরার শিক্ষা শান্তি ও ন্যায়ের পথ দেখায়: প্রধানমন্ত্রী ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের: অর্থমন্ত্রী শুক্রবার ৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায় বর্ষার শুরুতেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হবে ১৫ চুক্তি পূর্ববর্তী সরকারের ১,৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প এখন সরকারের ‘গলার কাঁটা’: অর্থমন্ত্রী
শিরোনাম
সর্বোচ্চ জাকাত সংগ্রহকারী নির্বাচিত হলেন ডিসি ফরিদা খানম এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ আশুরার শিক্ষা শান্তি ও ন্যায়ের পথ দেখায়: প্রধানমন্ত্রী ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের: অর্থমন্ত্রী শুক্রবার ৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায় বর্ষার শুরুতেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হবে ১৫ চুক্তি পূর্ববর্তী সরকারের ১,৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প এখন সরকারের ‘গলার কাঁটা’: অর্থমন্ত্রী

সন্তান আছে, আত্মীয়স্বজনও আছে তবু নেই প্রকৃত সঙ্গ

সন্তান আছে, আত্মীয়স্বজনও আছে তবু নেই প্রকৃত সঙ্গ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৯:৪২

একসময় মানুষের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা ছিল পরিবার। বার্ধক্যে পৌঁছে সন্তান-সন্ততি, নাতি-নাতনি ও জীবনসঙ্গীকে ঘিরে শান্ত, সম্মানজনক ও পরিপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখতেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্রও বদলে গেছে। আজ এমন অনেক প্রবীণ আছেন, যাঁদের পরিবার আছে, সন্তান আছে, আত্মীয়স্বজনও আছে তবু নেই প্রকৃত সঙ্গ। এই নীরব একাকিত্ব ধীরে ধীরে আমাদের সমাজের একটি বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে।

একাকিত্ব মানেই একা বসবাস নয়। একজন মানুষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থেকেও গভীরভাবে একাকী হতে পারেন। কারণ মানুষের প্রয়োজন শুধু খাদ্য, বস্ত্র বা চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন আন্তরিক আলাপ, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ এবং নিজের অস্তিত্বকে মূল্যবান বলে অনুভব করার পরিবেশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চাহিদা আরও গভীর হয়ে ওঠে।

একসময় যৌথ পরিবারে প্রবীণেরা ছিলেন পরিবারের অভিভাবক। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। পারিবারিক নানা বিষয়ে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, ফলে তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনীয় ও সম্মানিত মনে করতেন। কিন্তু নগরায়ণ, একক পরিবার, কর্মব্যস্ততা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে সেই সামাজিক কাঠামো দ্রুত ভেঙে গেছে।

বর্তমান প্রজন্ম শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনের চাপে ব্যস্ত। অনেক সন্তান দেশের বাইরে বা দূরের শহরে বসবাস করেন। প্রযুক্তির কারণে যোগাযোগ সহজ হলেও সম্পর্কের গভীরতা সব সময় সমানভাবে বাড়েনি। মোবাইল ফোনে কয়েক মিনিটের খোঁজখবর দায়িত্ববোধের প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু তা সব সময় একজন প্রবীণের সঙ্গের অভাব পূরণ করতে পারে না।

অনেক প্রবীণের আর্থিক নিরাপত্তার অভাব নেই। সন্তানেরা নিয়মিত খোঁজ নেন, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেন। তবুও তাঁদের মনে এক ধরনের শূন্যতা থেকে যায়। কারণ তাঁরা অনুভব করেন, তাঁদের কথা শোনার মানুষ কমে যাচ্ছে, পারিবারিক আলোচনায় তাঁদের গুরুত্ব আগের মতো নেই, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা থেকেও তাঁরা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে নিজের ঘরেই অনেক সময় তাঁরা নিজেকে অতিথির মতো মনে করেন।

জীবনসঙ্গীকে হারানোর পর এই একাকিত্ব আরও গভীর হয়। তখন শুধু একজন মানুষকে হারানো হয় না; হারিয়ে যায় দীর্ঘদিনের স্মৃতির সঙ্গী, সুখ-দুঃখের অংশীদার এবং জীবনের নীরব সাক্ষী। সন্তান-স্বজন পাশে থাকলেও সেই শূন্যতা পূরণ করা সহজ নয়। অনেক প্রবীণ তখন নিঃসঙ্গতা, মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং জীবনের প্রতি অনাগ্রহ নিয়ে দিন কাটান।

একাকী বার্ধক্যের পেছনে প্রজন্মগত দূরত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নতুন প্রজন্মের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতা অনেক প্রবীণের কাছে অপরিচিত। একইভাবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধও সব সময় তরুণদের কাছে সমান গুরুত্ব পায় না। ফলে একই পরিবারে থেকেও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।

এই সংকট শুধু একটি পারিবারিক সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব বিষণ্নতা, উদ্বেগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, এমনকি হৃদ্‌রোগসহ নানা শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই প্রবীণদের একাকিত্বকে কেবল আবেগের বিষয় হিসেবে নয়, সামাজিক স্বাস্থ্য সমস্যার অংশ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের উচিত প্রবীণদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ত রাখা। একই সঙ্গে সমাজে প্রবীণবান্ধব ক্লাব, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, পাঠচক্র, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। প্রবীণদেরও নিজেদের আগ্রহ, শখ এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

বার্ধক্য জীবনের শেষ অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই বিচ্ছিন্নতার অধ্যায় হওয়া উচিত নয়। একজন প্রবীণের সবচেয়ে বড় চাহিদা সব সময় অর্থ বা সম্পদ নয়; অনেক সময় একটি আন্তরিক আলাপ, কিছুটা সময় এবং পাশে থাকার নিশ্চয়তাই তাঁর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।

পরিবার থাকা সত্ত্বেও যদি প্রবীণদের সঙ্গহীনতার সংখ্যা বাড়তেই থাকে, তবে আমাদের সামাজিক উন্নয়ন কখনোই পূর্ণতা পাবে না। একটি মানবিক সমাজের প্রকৃত পরিচয় নির্ভর করে সে তার প্রবীণদের কতটা সম্মান, মর্যাদা ও সঙ্গ দিতে পারে তার ওপর।

প্রবীণদের সবচেয়ে বড় অভাব অনেক সময় অর্থের নয় মানুষের; পরিবারের নয় সঙ্গের।

আরও পড়ুন