০৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০০:২৪

শিরোনাম
ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শিরোনাম
ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন জুয়া ঠেকাতে নতুন আইন, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ঠেকাতে নতুন আইন, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৬:১৪

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার রোধে নতুন আইন কার্যকর করেছে সরকার। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে নতুন আইন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় আইনটি প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আইনটি কার্যকর হয়েছে।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

এ ছাড়া অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশ নিলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

নতুন আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পাবেন। জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার বা সার্ভার অবকাঠামোও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্স, জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো। তবে পুরোনো আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলো নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

আরও পড়ুন