০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৭:০০

শিরোনাম
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রান্তিক গ্রাহকদের বিবেচিনায় রেখে বিদ্যুৎমূল্য পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু
শিরোনাম
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রান্তিক গ্রাহকদের বিবেচিনায় রেখে বিদ্যুৎমূল্য পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু

ময়মনসিংহে বাড়ছে হাম সংক্রমণ, ৩ দিনে মৃত্যু ৫

ময়মনসিংহে বাড়ছে হাম সংক্রমণ, ৩ দিনে মৃত্যু ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ২১:৪৭

ময়মনসিংহে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে এ রোগে আক্রান্ত শিশু। গত ১২ দিনে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছে ৫৬০ জন। এর মধ্যে হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জন। আর আক্রান্তদের মধ্যে গত তিন দিনে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ শিশুর।

রবিবার (২৯ মার্চ) হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। হাসপাতালটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ওই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছোঁয়াচে এ রোগে আক্রান্তদের সামলাতে হাসপাতালটিতে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে, গড়ে তোলা হয়েছে পৃথক হাম কর্নারও।

সূত্র জানায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীও রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৪ মার্চ হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিক্যাল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। 

এ ছাড়া হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিনটি পৃথক কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। হাম কর্নার নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। তবে সেখানে রোগী সংকুলান হচ্ছে না। প্রতিদিনই আসছে হাম আক্রান্ত শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,  ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে সব ধরনের শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বরান্দা- সব জায়গায়ই রোগী। ৬০ জন রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে ৩০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু অংশ থেকে রোগী ভর্তি করা হয়।

আজ (রবিবার) হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০৬ জন শিশু রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্ধারিত একটি কক্ষে ১০ জন হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কথা থাকলেও তাতে ধরছে না রোগী। এক বিছানায় দুই রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।

এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রæত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে, মাথায় প্রদাহসহ নানা রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন লক্ষণও রয়েছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ রোগী থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হামের রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে রয়েছে- এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত তিনটি কক্ষে রোগীদের রাখা হচ্ছে এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান আরো বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) লোকজন এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিশুদের টিকাদানে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, নানা ধরনের রোগে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তার মধ্যে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। এই রোগ ইতোপূর্বে এত ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতি ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কারণে টিকাদান সঠিকভাবে না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশেই হামের প্রকোপ বেড়েছে। টিকা সঠিকভাবে হলে হাসপাতালে রোগী দেখা যেত না। তিনি বলেন, ৮৫টি শিশুর স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সহকারী পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালে তিনটি কর্নার চালু হয়েছে যাতে অন্যরা হাম আক্রান্তদের সংস্পর্শে না যায়। প্রতিনিই রোগী বাড়ায় আমাদের জায়গা না থাকলেও আইসোলেশনের জায়গাটি বাড়ানো হবে। রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগের তিনটি কক্ষ নিয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে হাসপাতালের অষ্টম তলায় হাম আক্রান্তদের জন্য পৃথক  আইসোলেশন কক্ষ তৈরি করা হবে।’


 

আরও পড়ুন