০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৩:১৭

শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী
শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য নেই, বিপাকে কৃষক

উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য নেই, বিপাকে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১:১৮

উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় আলুর বাজারে ধস নেমেছে। মাঠ থেকে পাইকারি বাজার—সর্বত্রই আলুর দাম পানির দরে নেমে আসায় কৃষকদের লোকসানের শঙ্কা কাটছেই না। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫ থেকে ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে কৃষকদের দাবি অনুযায়ী প্রতি কেজি উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় তিন গুণ কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জেলার পাইকারি হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলু জাতভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় চাষাবাদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি অর্ধেকের বেশি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জমি থেকে আলু তোলার শ্রমিক খরচও উঠছে না।

সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “ঋণ করে দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। কিন্তু এবারও উৎপাদন খরচ উঠছে না।” পত্নীতলা ও মান্দা উপজেলার কৃষকরাও একই অভিযোগ তুলে জানান, হিমাগারের ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসানের মুখে অনেক কৃষকই আগামীতে আলু চাষ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত মৌসুমের তুলনায় এবার জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ কমেছে। তারপরও বর্তমানে বাজারে আলুর প্রচুর সরবরাহ থাকায় দাম কমে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, “গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ফলন ভালো হওয়ায় এবং সরবরাহ বাড়ার কারণে বাজারে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা।”

ভোক্তা পর্যায়ে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় নওগাঁর হাজার হাজার আলু চাষি এখন পথে বসার উপক্রম। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করলে এই কৃষি শিল্প দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে।

আরও পড়ুন