স্বপ্নের ক্যাম্পাসে কেনো মৃত্যুর ছায়া?
মালিয়া হক তন্দ্রা
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০০:৩৫
যে ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়, যে আঙিনায় তরুণেরা ভবিষ্যতের রঙিন গল্প আঁকে—সেই জায়গাতেই আজ কেন এত শোকের ছায়া? যে করিডোরে হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হওয়ার কথা, এখন ভেসে আসে না-পাওয়া স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস।
গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু যেন পুরো শিক্ষাঙ্গনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ অভিমানে নিজের জীবন নিজেই কেড়ে নিয়েছে, কেউ সড়কের নির্মমতায় হারিয়েছে প্রাণ, আবার কেউ অসুস্থতার কাছে হেরে গিয়ে চিরবিদায় নিয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুই আলাদা, কিন্তু তাদের বেদনা এক—অসমাপ্ত গল্প, অপূর্ণ স্বপ্ন আর অপ্রস্তুত বিদায়।
একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু মানে শুধু একটি জীবন হারানো নয়; এটি একটি পরিবারের ভেঙে পড়া ভবিষ্যৎ, এটি বন্ধুদের বুকভরা শূন্যতা, এটি সমাজের জন্য এক গভীর ক্ষতি। যে মা প্রতিদিন সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, যে বন্ধু আগামীকাল একসাথে ক্লাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করে—তাদের কাছে এই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আর কখনোই ফিরে আসবে না।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, এই মৃত্যুগুলো যেন আমাদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কেন? কেন একজন শিক্ষার্থী এতটাই ভেঙে পড়ে যে মৃত্যুকেই বেছে নেয়? কেন আমাদের সড়কগুলো এতটা অনিরাপদ, যেখানে প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে তরুণ প্রাণ? কেন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কেউ একা হয়ে পড়ে?
মানসিক চাপ, একাডেমিক প্রতিযোগিতা, পারিবারিক সংকট, সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে আজকের শিক্ষার্থীরা যেন এক অদৃশ্য যুদ্ধের মধ্যে বসবাস করছে। কিন্তু এই যুদ্ধ তারা একা লড়ছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা, সহানুভূতিশীল পরিবেশ কিংবা নিরাপদ কাঠামো—সবকিছুই এখনও অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি শুধু পাঠ্যবই শেখানোর জায়গা, নাকি একটি নিরাপদ আশ্রয় যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার ভয়, ব্যর্থতা আর কষ্টগুলো ভাগ করে নিতে পারে? এই প্রশ্ন আজ আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
এখন সময় শুধু শোক প্রকাশের নয়, সময় জবাব খোঁজার। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি সহানুভূতিশীল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা—এসবই এখন জরুরি। কারণ, একটি ক্যাম্পাস কখনোই মৃত্যুর গল্প বলার জায়গা হতে পারে না। এটি স্বপ্ন বাঁচানোর জায়গা—স্বপ্ন ভাঙার নয়।
লেখক,
মালিয়া হক তন্দ্রা
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ইমেইল : [email protected]
আরও পড়ুন
- • সমঝোতা স্মারক থেকে সরে যেতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ইরানি অধ্যাপকের
- • ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পেছাল
- • করাচিতে রেঞ্জার্স সদর দফতরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৭
- • টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট শুরু
- • সংসদে ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব, নেপথ্যে কী?
- • ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫৫ হাজারের বেশি
- • অনলাইন ব্যবস্থায় দ্রুত নিষ্পত্তি হবে শিক্ষকদের অবসর ভাতার আবেদন: শিক্ষামন্ত্রী
- • বিবাহিত পুরুষের প্রেমে না জড়ানোর পরামর্শ প্রভার
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
- • ম্যাচ উপভোগ করতে ঢাবিতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত
- • মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন হচ্ছে, গঠন হবে পৃথক ট্রাইব্যুনাল :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- • প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের: গালিবাফ
- • শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা
- • বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল যে দলগুলো
- • যুদ্ধবিরতির পরও কঠোর অবস্থানে ইসরাইল, লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু
- • সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
