জকসু সম্পাদককে থাপ্পড়, ছাত্রদলের নেলীর বিরুদ্ধে জিডি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৩৮
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে আক্রমণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় জিডি করা হয়েছে।
হাবিব মোহাম্মদ ফারুক বলেন, “আমরা জবি প্রশাসনকে জানাচ্ছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”
তিনি আরও বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে প্রশাসনকে এর দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে কেন্দ্র করে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৮ম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে হল শাখা ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরুদ্ধে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সামনে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি বলেন, জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। তিনি জকসু নির্বাচনে হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। থাপ্পড় মারার স্বীকারোক্তি তিনি নিজে ফেসবুকেও দিয়েছেন। জর্জিসকে ‘টুকরো টুকরো’ করে ফেলবেন এবং ‘পরে দেখে নেবেন’ বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। তার এমন আচরণ শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধ। জর্জিসের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই হেনস্থা ও হুমকির বিচার করতে হবে।
সাদিয়া সুলতানা নেলী ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জকসু নির্বাচনে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী ছিলেন। তিনি জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের কর্মী বলে জানা গেছে।
জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, ৮ম ইনডোর গেমসে মেয়েদের ক্যারম খেলায় দুই দল ফাইনালে উঠে, এরমধ্যে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাদিয়া সুলতানা নেলীর দল, অন্য আরেক দল, সেই দলে দুইজন দুই বিভাগের ছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী এক দলে এক বিভাগ থেকে হতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টি ফাইনালে উঠা দলগুলোর মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, পরে আমি ও শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্রের ডিরেক্টর গৌতম দাস স্যার সেখানে যাই। বিচারক ও স্যার তাদের সমস্যা শুনে দুইদলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে চাইলে তা মানেনি। পরে আমি বিচারক ও স্যারকে পরামর্শ দেয় যেন এ বিভাগটি আপতত স্থগিত রাখা হয়। যেন ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ও বাণিজ্য অনুষদের ডিন আলী নূর স্যারসহ সংশ্লিষ্টা যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে।এরপর সাদিয়া সুলতানা নেলী আমাকে স্যারের সামনেই থ্রেট করে ও অসাদাচরণ করেন।
এদিকে আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাদিয়া সুলতানা নেলী আমাকে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহা. আলী নূর স্যার, শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্রের ডিরেক্টর গৌতম দাস স্যার, জকসুর ভিপির সামনেই আমাকে হুমকি ও থাপ্পড় মারে। এ সময় সে আমাকে পাশে আসতে বললে আমি যায়নি। কারণ বিষয়টি ক্রীড়া কমিটি দেখবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমন আচরণে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, স্যার একটা প্রতিবেন জমা দিতে আলী নূর স্যারকে বলেছেন। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে সাদিয়া সুলতানা নেলীকে একাধিকবার কল দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। থাপ্পড় মারার বিষয়টি স্বীকার করে ফেসবুকে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (ক্রিড়া সম্পাদক জকসু) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’
এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি শুনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি, সে যেই হোক এর বিচার আমরা করবোই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে কেউ হাত তুলবে, তা হতে দেব না। এমন বিচার করা হবে, যেন কেউ আর এমন আচরণ করার সাহস না করে।’
আরও পড়ুন
- • এমন ব্যাটিংয়ে হতাশ সিমন্স, ক্ষোভ প্রকাশ
- • জবি সোশ্যাল ওয়ার্ক ডিবেটিং ক্লাবের নেতৃত্বে মায়িশা-ইউনুস
- • স্টারমারের বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
- • সাভারে সবজি ক্ষেতে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ কৃষকের
- • পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পথে মধ্যপ্রাচ্য: জেডি ভ্যান্স
- • যোগব্যায়াম শুধু ব্যায়াম নয়, এটি জীবনদর্শন: মেয়র শাহাদাত
- • ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘আবারও হামলা চালাব’
- • মালয়েশিয়ায় লালগালিচায় বরণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান
- • চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, সামনে দীর্ঘ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া
- • বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে নথি
- • সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
