১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৯:১৩

শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন

কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুর বিবরণ কেমন?

কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুর বিবরণ কেমন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫০

পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে জীবনের আগে মৃত্যুর উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি পন্ডিতদের মতে, এর কারণ হলো- মানুষ একসময় অস্তিত্বহীন অবস্থায় ছিল। অর্থ্যাৎ মানব-আত্মায় রুহ ফুঁকে দেওয়ার আগে মানুষ ছিল প্রাণহীন বা মৃত। তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে জীবন দান করেন।

এছাড়া কোরআনে ‘মৃত্যু’ ও ‘মৃত’ উভয় শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে, যা মূলত দেহ থেকে আত্মার বিচ্ছিন্নতাকেই নির্দেশ করে। তবে কখনও এই শব্দগুলো আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আবার কখনও রূপক অর্থে যেমন- ঈমানকে জীবন এবং ঈমানহীনতাকে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত মৃত্যু প্রতিটি জীবের জন্য একবারই সংঘটিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে সফলকাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)

কোরআনে মৃত্যুর অর্থের ধরন : পবিত্র কোরআনে মৃত্যুর বিষয়টি মূলত দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- 

১. প্রকৃত অর্থে বা শারীরিক মৃত্যু : যেখানে আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।আল্লাহ তাআলা আরও সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহ মৃত্যুর সময় আত্মাসমূহ গ্রহণ করেন এবং যারা মারা যায় না তাদের আত্মাও ঘুমের সময় গ্রহণ করেন। তারপর যাদের জন্য তিনি মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন, তাদের আত্মা তিনি আটকে রাখেন এবং অন্যদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৪২)

২. রূপক অর্থে মৃত্যু : ঈসা (আ.)-এর প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আল্লাহ বললেন: ‘হে ঈসা, আমি অবশ্যই তোমাকে গ্রহণ করব, তোমাকে আমার নিকট তুলে নেব এবং অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫) এ আয়াতে ‘গ্রহণ’ শব্দটি প্রকৃত মৃত্যুর অর্থে নয়; বরং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কুদরতের মাধ্যমে ঈসা (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় উঠিয়ে নেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

যা কোরআনের সামগ্রিক বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে রূপক অর্থে মৃত্যুর আরেকটি ধরন, যেখানে ঈমানহীনতা, গোমরাহি বা হৃদয়ের অচেতনতাকে মৃত্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল, তারপর আমি তাকে জীবন দান করেছি এবং তার জন্য এমন একটি আলো স্থাপন করেছি, যার মাধ্যমে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে, সে কি তার মতো, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত, কখনোই তা থেকে বের হতে পারে না? এভাবেই কাফেরদের কাছে তাদের কর্মকান্ডকে শোভিত করে দেখানো হয়েছে।’ (সুরা: আনআম, আয়াত: ১২২)

অতএব, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ হলো আত্মার মৃত্যু বা ঈমানহীনতা। যার দেহ জীবিত কিন্তু আত্মা অন্ধকারাচ্ছন্ন, সে মূলত চলন্ত এক মৃতদেহ, আর যার অন্তরে ঈমানের আলো আছে, সে দৈহিক মৃত্যুর পরেও অবিনশ্বর সফলতার অধিকারী। সুতরাং, প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সাময়িক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরকালীন স্থায়ী জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন