১৭ জুন ২০২৬, বুধবার, ০২:১৫

শিরোনাম
চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী
শিরোনাম
চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন আশুরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কক্ষ নির্মাণে ৬ লাখ বরাদ্দ নিয়ম না মানলে সংসদ চলবে না: স্পিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন আরও ১০ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা: রেলপথমন্ত্রী

দুই দশক পর প্রথমবার ভোট দিচ্ছে গাজাবাসী

দুই দশক পর প্রথমবার ভোট দিচ্ছে গাজাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৫৮

ফিলিস্তিনিরা আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এবার গাজাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের প্রতীকী অংশগ্রহণ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তাদের প্রশাসনিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে।

২০০৭ সালে হামাস গাজা থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে অঞ্চলটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

গাজার বাসিন্দারা, যারা এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছেন, ভোট দেওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আদহাম আল-বার্দিনি নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই আমি নির্বাচনের কথা শুনে আসছি। আমরা অংশ নিতে চাই, যাতে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারি।’

এদিকে ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়িয়েছে। অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলমান আলোচনাগুলো খুব অল্প অগ্রগতি করেছে। আলোচনার লক্ষ্য ছিল গাজায় আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ইউরোপীয় ও আরব দেশগুলো গাজায় ফিলিস্তিনে কর্তৃপক্ষের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পরিকল্পনায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে সীমিত স্বশাসনের কথাও রয়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, এই স্থানীয় নির্বাচন প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের পথে অগ্রগতি আনতে পারে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সংস্কারকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। এটি গাজা যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ফিলিস্তিনি নির্বাচন, যেখানে দুই বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর সংঘাত শুরু হয়।

অর্থনৈতিক সংকটও তীব্র হয়েছে, কারণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ইসরায়েল তাদের জন্য সংগৃহীত কর রাজস্ব আটকে রেখেছে, যা সংকটকে আরো গভীর করেছে।

দেইর আল-বালাহ শহরে ভবনগুলোতে প্রার্থীদের ব্যানার ঝুলছে। এখানে ভোটগ্রহণ তাঁবুতে হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভোট প্রক্রিয়া দুই ঘণ্টা আগে শেষ হবে। 

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের কারণে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন বয়কট করেছে, কারণ প্রার্থীদের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি সংক্রান্ত শর্তে সমর্থন দিতে বলা হয়েছে। হামাসও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী দেয়নি, তবে দেইর আল-বালাহর একটি তালিকাকে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হচ্ছে।

তারা বলেছে, নির্বাচনের ফলাফল তারা মানবে এবং গাজায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় তাদের সিভিল পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনে ১০ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধিত, যার মধ্যে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার। ফলাফল শনিবার রাত বা রবিবারের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন