প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ, এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডে নজরদারি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০০:১৩
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় একাধিক কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সরকার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু প্রশাসন নয়—দলীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডও এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমেও মনিটরিং করা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কার্যক্রম।
সরকারের প্রথম দুই মাসেই দুজন মন্ত্রী, তিনজন প্রতিমন্ত্রী এবং অন্তত ২৩ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, দুর্নীতির পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রী শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ক্ষমতায় এসেই তিনি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেন। সরকারের ভেতরে দুর্নীতি বা অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হচ্ছে। এতে মন্ত্রী ও এমপিদের সম্পদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, প্রশাসনিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া সচিবালয়ে তদবিরবাজদের তালিকা প্রণয়ন এবং তা একাধিক সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের কক্ষে আগত ব্যক্তিদের পরিচয় ও অতীত কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ, একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এসব বিষয়কে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমাতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সপ্তাহে দুইদিন দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
বিএনপি নেতারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে—ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা।
তাদের মতে, নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা—ক্ষমতা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, এটি জনগণের আমানত।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে নতুন সরকার দ্রুতই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন
- • প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান
- • প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন অধ্যায়, পরীক্ষায় লক্ষ্যভেদ করল ভারতের নতুন অস্ত্র
- • মেসিদের বিশ্বকাপ একাদশ প্রায় চূড়ান্ত, স্কালোনির চমক কোথায়?
- • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১১৩
- • সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় পুলিশ কর্মকর্তার নিহত
- • চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার
- • নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের সংঘর্ষ
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
- • শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
