বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, মহাবিপদে ভারত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৬
তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের পরিকল্পনাও জোরদার করছে নয়াদিল্লি।
চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এর জবাবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসির তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।
তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে বড় পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও ভারতের এসইউএমপি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও শুরু হয়নি।
ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। নদীটি অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় দেওয়া এক লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। তবে এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ জোরদার করা হচ্ছে।
প্রতিফলন/ এস এস
আরও পড়ুন
- • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
- • উত্তাল ঢেউ কিংবা অভাব কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাসলিমার বৈঠা হাতে সংগ্রামী জীবন
- • বস্ত্র ও পাট অধিদপ্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- • ইরান সফরে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- • প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি চুক্তির সম্ভাবনা, আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্প: পররাষ্ট্র সচিব
- • বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, মহাবিপদে ভারত
- • মুন্সীগঞ্জ সফরে উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
- • আজ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে নথি
- • চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
