শাওয়াল মাসের রোজা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৬:১৮
পবিত্র রমজান বিদায়ের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা মুমিনের জন্য নেকির পাল্লা ভারী করার এক অনন্য সুযোগ। এই রোজাগুলোর ফজিলত, সময় এবং নিয়ম সম্পর্কিত একটি দালিলিক প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
শাওয়ালের রোজা শুরু ও শেষের সময়
ঈদুল ফিতরের দিন (১লা শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদের দিনটি অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে এই রোজা শুরু করা যায়। শাওয়াল মাসের ২ তারিখ (২২শে মার্চ) থেকে এই রোজা রাখা শুরু করা উত্তম। শাওয়াল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত এই রোজা রাখার সুযোগ থাকে। যেহেতু হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ (১৯ এপ্রিল) (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পর্যন্ত এই আমলটি সম্পন্ন করা যাবে।
৬টির কম রোজা রাখলে কি ক্ষতি আছে?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব বা অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নফল আমল। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই এই রোজা পালনের ক্ষেত্রে বিধান হলো-
কেউ যদি ৬টির একটিও না রাখে বা কোনো কারণে ৬টির কম রাখে, তবে তার কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না। তবে হাদিসে বর্ণিত ‘সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব’ পেতে হলে অবশ্যই ৬টি রোজা পূর্ণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘কেউ কোনো নেক আমল করলে, তাকে তার দশ গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।’ (সুরা আনআম: ১৬০) সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিন ও শাওয়ালের ৬ দিন মোট ৩৬ দিন। প্রতিটি আমলের সওয়াব ১০ গুণ হিসেবে তা ৩৬০ দিনে পরিণত হয়, যা প্রায় এক বছরের সমান। তাই ৬টির কম রাখলে এই বিশেষ ফজিলতটি পূর্ণ হবে না।
রোজা রাখার পদ্ধতি: ধারাবাহিক না কি বিরতি দিয়ে?
শাওয়ালের ৬টি রোজা একাধারে টানা রাখা জরুরি নয়। বরং পুরো শাওয়াল মাসের মধ্যে নিজের সুবিধামতো ভেঙে ভেঙে বা বিরতি দিয়ে ৬টি রোজা পূর্ণ করলেই হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে।
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সুন্নাহ রোজার সাথে মিলিয়ে অথবা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের (আইয়ামে বিজ) রোজার সাথে মিলিয়ে সহজেই এই ৬টি রোজা সম্পন্ন করা যায়।
আগে কাজা না আগে শাওয়াল?
যাদের রমজানের রোজা কোনো কারণে কাজা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেমের মত হলো- আগে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নেবেন, তারপর শাওয়ালের রোজা রাখবেন। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল (অর্থাৎ পূর্ণ করল), অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল...’। তবে যদি শাওয়াল মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে শাওয়ালের নফল রোজা আগে রেখে পরে কাজা আদায় করার অবকাশ রয়েছে বলে অনেক ফকিহ মত দিয়েছেন।
শাওয়ালের রোজা রমজানের ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি রোজার ঘাটতি পূরণ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক। ৬টি রোজা পূর্ণ করাই উত্তম, তবে কম রাখলে কোনো গুনাহ নেই; শুধু বিশেষ ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী শাওয়াল মাসের মধ্যেই এই আমল সম্পন্ন করার চেষ্টা করা উচিত।
আরও পড়ুন
- • প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান
- • প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন অধ্যায়, পরীক্ষায় লক্ষ্যভেদ করল ভারতের নতুন অস্ত্র
- • মেসিদের বিশ্বকাপ একাদশ প্রায় চূড়ান্ত, স্কালোনির চমক কোথায়?
- • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১১৩
- • সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় পুলিশ কর্মকর্তার নিহত
- • চলতি মাসে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার
- • নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের সংঘর্ষ
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
- • শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
