পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবন
কলাম লেখক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৫১
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল কেবল পাহাড়, বন আর ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্যের নাম নয় এটি বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাণের ঠিকানা। এই পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাপন সহজ-সরল হলেও সংগ্রামে ভরা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, তারা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই জীবনকে এগিয়ে নেয়। তাদের প্রতিদিনের জীবন প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। জুম চাষ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ কিংবা পাহাড়ি ঝর্ণার পানিতে গৃহস্থালির কাজ সবকিছুতেই প্রকৃতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
শৈশবে মা–বাবার সঙ্গে পাহাড়ি পথ বেয়ে জুমে যাওয়া, বীজ বোনা ও ফসল তোলার স্মৃতি পাহাড়ি শিশুদের নিত্যদিনের অংশ। পরিশ্রমে ক্লান্তি থাকলেও হতাশা সেখানে খুব কমই দেখা যায়, কারণ সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার সংস্কৃতি এই সমাজের গভীরে প্রোথিত। পার্বত্য আদিবাসী সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। কারও ঘরে উৎসব হলে পুরো পাড়া সেখানে উপস্থিত থাকে। বৈসাবি কিংবা বৈসুকের মতো উৎসবে বয়স ও শ্রেণিভেদ ভুলে গ্রামের প্রতিটি মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে। এসব উৎসব কেবল আনন্দই দেয় না, বরং মানুষকে তাদের শেকড় ও পরিচয়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে।
তবে বাস্তবতা সবসময় এত সুন্দর নয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব খুব কাছ থেকে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল অনেক দূরে, শিক্ষক সংকট প্রকট। সন্তানদের কষ্টের কথা ভেবে অনেক মা–বাবাই তাদের পড়াশোনায় পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী কেবল সুযোগের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। যারা শহরে এসে পড়াশোনা করে, তাদের জীবনধারা ও সংগ্রামের গল্প মূলধারার সমাজ খুব কমই জানে বা বোঝে।
এর চেয়েও বেদনাদায়ক হলো উন্নয়নের নামে প্রায়ই আদিবাসীদের ভূমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ে। নিজেদের চারপাশেই দেখা যায় কীভাবে বন উজাড় হচ্ছে, পাহাড় কাটা পড়ছে; অথচ সেই তথাকথিত উন্নয়নের সুফল আদিবাসীদের কাছে পৌঁছায় না। এতে শুধু জীবিকাই নয়, হুমকির মুখে পড়ে তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও অস্তিত্ব।
আদিবাসীদের জন্য শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। আদিবাসীদের উন্নয়ন মানে তাদের সংস্কৃতি মুছে ফেলা নয়; বরং তাদের ভাষা, ঐতিহ্য ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যাওয়া। অধিকার ও সম্মান পেলে তারাই আগামী বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো দেশের একটি জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য ও অধিকারবঞ্চিত করে রেখে সেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আদিবাসীদের উন্নয়নে দেশের সকল নাগরিকের সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
লেখক,
লিমা ত্রিপুরা
লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইল:
আরও পড়ুন
- • জম্মু-কাশ্মীরে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে,আহত ৪ ভারতীয় সেনা
- • দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, সামনে দীর্ঘ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া
- • বিশ্বকাপে শক্ত অবস্থানে আর্জেন্টিনা, পরবর্তী লড়াই অস্ট্রিয়ার সঙ্গে
- • দেশে প্রথমবার ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের সিদ্ধান্ত, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
- • বাজুসের নতুন ঘোষণায় ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
- • দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- • টেক্সাসে মহাসড়কে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাব আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে
- • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
