তিস্তা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সহায়তার ঘোষণা চীনের
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ১৫:৩৮
বাংলাদেশের তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে চীন স্পষ্ট করেছে, এ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং চীন এ উদ্যোগে যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
চীনের এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন তিস্তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারতের কৌশলগত মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পকে দিল্লি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধু নদী ব্যবস্থাপনা নয়; প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান এবং এ অঞ্চলে চীনের সম্ভাব্য উপস্থিতিও ভারতের কৌশলগত বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিস্তা প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতার পথে অগ্রসর হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাও দিল্লির নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিস্তা প্রকল্পকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় উন্নয়নের প্রয়োজন বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার। একই সঙ্গে প্রতিবেশী অঞ্চলে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের নিরাপত্তাগত দিক বিবেচনা করাও ভারতের স্বাভাবিক কৌশলগত দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের ‘তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়’ মন্তব্যটি আঞ্চলিক উদ্বেগ প্রশমনের একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
- • রোমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
- • দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সরকারের
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনতে নতুন সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- • মৃত্যুর ২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঠাঁই পেল আহমদ ছফার দেহাবশেষ
- • শুল্কছাড়েও কমেনি মসলার দাম, জিরা ছাড়া সব মসলাই চড়া
- • সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন 'গডজিলা' সিরিজের অভিনেত্রী কেলি হটল
- • গ্যাস সংকটে খিলক্ষেতে এয়ারপোর্ট সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে ভোগান্তি
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
