২৭ জুন ২০২৬, শনিবার, ১১:৩৭

শিরোনাম
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে স্বর্ণের দাম কমল কূটনৈতিক সফর শেষে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নিত্যপণ্যের দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতা স্মারক সই সর্বোচ্চ জাকাত সংগ্রহকারী নির্বাচিত হলেন ডিসি ফরিদা খানম এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ
শিরোনাম
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে স্বর্ণের দাম কমল কূটনৈতিক সফর শেষে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নিত্যপণ্যের দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতা স্মারক সই সর্বোচ্চ জাকাত সংগ্রহকারী নির্বাচিত হলেন ডিসি ফরিদা খানম এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ

ইসরাইল-লেবানন নতুন চুক্তিতে আশার আলো, সীমান্তে সংঘর্ষ এখনো থামেনি

ইসরাইল-লেবানন নতুন চুক্তিতে আশার আলো, সীমান্তে সংঘর্ষ এখনো থামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনার পর ওয়াশিংটনে একটি ‘কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক)’ শান্তি চুক্তিতে সই করেছে ইসরাইল ও লেবানন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। খবর বিবিসির।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

শুক্রবার (২৬ জুন) স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এ চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগঠনটি তাদের যোদ্ধা প্রত্যাহার করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধের অঙ্গীকার রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে এবং নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এছাড়া বন্দি বিনিময় ও নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো পক্ষই বঞ্চিত হবে না বলেও চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। এর আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও আরব দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে লেবানন।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি যৌথ সামরিক সমন্বয়কারী দলও গঠন করা হবে।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে দুটি এলাকায়—লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং উত্তরে—দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাতে সীমান্তের দুই পাশে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন