৯০ দিনে খেলাপি ঋণ হ্রাস ৮৭ হাজার কোটি টাকা
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৫
তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এই কমতি ব্যাংকিং খাতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনও উদ্বেগজনক উচ্চতায় রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর আগের প্রান্তিকে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। সেই হিসাবে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, নজরদারি জোরদার এবং হিসাবের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ এই কমতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে পরিসংখ্যানের এই স্বস্তির আড়ালেও রয়েছে বড় ঝুঁকি। মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ হিসেবে চিহ্নিত, যা কার্যত আদায় অযোগ্য বলে বিবেচিত। অর্থাৎ বড় একটি অংশ এখনও ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম, ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঋণ আদায় না হলে ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়, এতে মুনাফা কমে যায় এবং মূলধনের ওপর চাপ তৈরি হয়।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া খেলাপি ঋণ বাড়লে নতুন ঋণ বিতরণে অনাগ্রহ তৈরি হয়, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়। ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়তে পারে, যা উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের জন্য ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে। আমানতকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি চরম পরিস্থিতিতে তারল্য সংকটও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লে সরকারকে বাজেট থেকে মূলধন সহায়তা দিতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত জনসম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই খেলাপি ঋণের উচ্চহার ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সার্বিকভাবে তিন মাসের এই নিম্নগতি ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও খেলাপি ঋণের উচ্চহার এখনো বড় ঝুঁকি হয়ে রয়ে গেছে। দীর্ঘ অস্থিরতার পর সামান্য স্বস্তি মিললেও টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার ও কঠোর তদারকির বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • একসঙ্গে ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি
- • ম্যানিলায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
- • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০৩
- • সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে অবহেলা, প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল ১২৮ বার
- • প্রেমের টানে দেশে আসছেন বিদেশি তরুণ-তরুণী, ভালোবাসা নাকি প্রতারণার ফাঁদ?
- • ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করল এনবিআর, জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫% কর প্রণোদনা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
