২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ১৫:১৯

শিরোনাম
চলতি বছরের শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন: বিমানমন্ত্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ, প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন সফর বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে ভক্তদের মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনো পস্তাতে হবে না: রাষ্ট্রদূত
শিরোনাম
চলতি বছরের শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন: বিমানমন্ত্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ, প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন সফর বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে ভক্তদের মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনো পস্তাতে হবে না: রাষ্ট্রদূত

বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল রপ্তানির সুযোগ ইরানের

বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল রপ্তানির সুযোগ ইরানের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ১৩:২৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও বড় পরিসরে তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ ফিরে পেতে পারে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় ইরান তেল রপ্তানি বাড়াতে পারলে বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে দেশটির অর্থনীতিতে।

বড় পরিসরে রপ্তানির সম্ভাবনা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের কাছে বর্তমানে ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন ট্যাংকার ও ভাসমান সংরক্ষণাগারে মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি সুপারট্যাংকার ইরানি বন্দর ছেড়ে ক্রেতা দেশের দিকে রওনা দিয়েছে, যা রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ব্যাংকিং, বিমা ও শিপিং খাতের ওপর থাকা বাধা কমে যাবে। এতে শুধু রপ্তানিই নয়, বিদেশে আটকে থাকা তেলের অর্থ ফেরত আনার সুযোগও তৈরি হবে।

উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা

নিষেধাজ্ঞার আগে ইরান দৈনিক প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। নিষেধাজ্ঞার সময় তা নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলে। তবে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি না হওয়ায় উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, ব্যাংকিং ও পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং হরমুজ প্রণালীর নৌপথ নিরাপদ থাকলে ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই ইরান যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইরান তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে। কারণ দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোর বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি হয়নি এবং ট্যাংকার বহরও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আয়ের সম্ভাবনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রথম দুই মাসেই ইরান প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বৈশ্বিক বাজারে আবারও ইরানি তেলের প্রবেশ বাড়বে।

তবে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলক্ষেত্রগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত ছিল এবং অনেক কূপে রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সমঝোতা এখনো একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যেতে দ্বিধা করতে পারে।

তবুও আপাতত এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন